https://newsuap.news/wp-content/uploads/2026/07/hedar-1-1.jpg

Special Olympics | ১২ বছর পর নিখোঁজ মেয়ে ফিরল সোনার পদক গলায়, কোচবিহারের পরিবারে আনন্দের সঙ্গে দুশ্চিন্তাও

নিউজ ইউ এ পি অনলাইন ডেস্ক: কোচবিহারের বক্সিরহাট থানার বালাকুঠি গ্রামের খেতমজুর পরিবারের মেয়ে মায়া বর্মন ১২ বছর আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি ফিরে এলেন পরিবারের কাছে, আর তাঁর গলায় তখন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় জেতা স্বর্ণপদক।( Special Olympics)

মায়া জন্ম থেকেই মূক ও বধির। ২০১৪ সালে, ১৭ বছর বয়সে খিদের তাড়নায় ভুল ট্রেনে উঠে উত্তর দিনাজপুরে পৌঁছে যান বলে আকার-ইঙ্গিতে জানিয়েছেন তিনি। স্টেশনে অসহায় অবস্থায় ঘুরতে দেখে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। পরিচয় জানা না যাওয়ায় তাঁকে হাওড়ার বাগনানের একটি সরকারি হোমে পাঠানো হয়।

আধারের আঙুলের ছাপে মিলল পরিবারের খোঁজ

সম্প্রতি হোম কর্তৃপক্ষ মায়ার আধার কার্ড তৈরির উদ্যোগ নিলে বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের সময় জানা যায়, বহু বছর আগেই তাঁর আধার তৈরি হয়েছিল। সেই পুরনো আধারের ঠিকানার সূত্র ধরে বক্সিরহাট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মায়াকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

বার্লিনে ভারতের হয়ে সোনা

বাগনানের হোমে থাকাকালীন মায়া ভলিবল খেলায় প্রশিক্ষণ নেন। একের পর এক প্রতিযোগিতায় সাফল্যের পর ২০২৩ সালে বার্লিন-এ আয়োজিত স্পেশ্যাল অলিম্পিক্স প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে স্বর্ণপদক জেতেন। ভলিবলের পাশাপাশি ফুটবল খেলেন, আঁকেন এবং নাচও শিখেছেন।“যে মেয়ে কথা বলতে পারে না, কানে শুনতে পায় না, সে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে এতগুলো পদক এনেছে— ভাবতেই পারিনি,” বলেন স্থানীয় শিক্ষক মুকুল বর্মা

আনন্দের মাঝেও চিন্তা

মায়ার বাবা মনো বর্মন অসুস্থতার কারণে নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। মা অন্যের জমিতে মজুরি করেন। সংসারে আরও সন্তান রয়েছে। ফলে মেয়ের খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়ার খরচ কীভাবে বহন করবেন, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার।স্থানীয় শিক্ষক মুকুল বর্মা আপাতত মায়ার দায়িত্ব নিয়েছেন। প্রশাসন ও ক্রীড়া দফতরের কাছে সহায়তার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।

সরকারের আশ্বাস

তুফানগঞ্জ-২ ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, মায়ার জন্য ভাতার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এলাকার বিধায়ক ও রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মালতী রাভা আশ্বাস দিয়েছেন, প্রয়োজনে আরও উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

“মেয়েটার প্রশিক্ষণ আটকাবে না। সরকার এবং আমি যা করার করব,” জানিয়েছেন মন্ত্রী।হারিয়ে যাওয়া এক কিশোরীর ফিরে আসার এই ঘটনা আজ কোচবিহারে শুধু আবেগের নয়, সংগ্রাম, প্রতিভা ও নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।