https://newsuap.news/wp-content/uploads/2026/07/hedar-1-1.jpg

Gaming App | গেমিং অ্যাপের ফাঁদে নাবালিকা পাচারের ছক, শিলিগুড়িতে উদ্ধার মালদার দুই স্কুলছাত্রী

নিউজ ইউ এ পি অনলাইন ডেস্ক: গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে কোরিয়ান ব্যান্ডে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে দুই নাবালিকা স্কুলছাত্রীকে পাচারের ছক কষার অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশের তৎপরতায় মঙ্গলবার রাতে শিলিগুড়ির নৌকাঘাট মোড় থেকে মালদার ইংরেজবাজারের দুই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।(Gaming App)

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দুই নাবালিকার বয়ান অনুযায়ী, গত সাত মাস ধরে একটি অ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের কোরিয়ান ভাষা ও সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ শেখানো হচ্ছিল। একইসঙ্গে কলকাতার আরও চারজন মেয়েও ওই প্রশিক্ষণে যুক্ত ছিল বলে দাবি।

কোরিয়ান ব্যান্ডে কাজের টোপ

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, নাবালিকাদের কোরিয়ান ভাষায় দক্ষ করে তোলার পর তাঁদের একটি কোরিয়ান ব্যান্ডে কাজের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। পরে অ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ দিয়ে তাঁদের ভুটান সীমান্তবর্তী জয়গাঁ-য় যেতে বলা হয়। সেই নির্দেশ মেনেই মঙ্গলবার বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে দু’জন জয়গাঁর উদ্দেশে রওনা দেয়।

বাস কন্ডাক্টরের সন্দেহে রক্ষা

দুই ছাত্রী উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের একটি বাসে শিলিগুড়ির দিকে আসছিল। বাসের কন্ডাক্টরের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি নৌকাঘাট মোড়ে ট্রাফিক পুলিশকে বিষয়টি জানান।

এরপর ট্রাফিক পুলিশ দ্রুত এনজেপি থানা-র সঙ্গে যোগাযোগ করে। পুলিশ নৌকাঘাট মোড় থেকে দুই নাবালিকাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

উদ্ধারের মূল স্থানগুলি

পরিবার ও পুলিশের তৎপরতা

দুই নাবালিকা মোবাইল ফোন সঙ্গে না নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় তাঁদের পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। ইংরেজবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ সম্ভাব্য রুটে নজরদারি শুরু করে। উদ্ধার হওয়ার খবর পেয়ে রাতেই দুই ছাত্রীর অভিভাবক ও ইংরেজবাজার থানা-র একটি দল এনজেপি থানায় পৌঁছে যায়।

পাচারকারীদের ‘ব্রেনওয়াশ’-এর অভিযোগ

ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী বলেন,

“দুই নাবালিকা কোরিয়ান ভাষায় সাবলীল হয়ে উঠেছিল। পাচারকারীরা তাঁদের ব্রেনওয়াশ করে দিয়েছিল। জয়গাঁ পৌঁছে গেলে বড় বিপদ হতে পারত।”

তিনি আরও দাবি করেন, কলকাতা থেকে আরও চারজন মেয়ে একইসময়ে জয়গাঁর উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। তাঁদের অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়।

অ্যাপ বন্ধ, তদন্তে পুলিশ

পুলিশ সূত্রে খবর, যে অ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল, সেটি বর্তমানে অচল হয়ে গেছে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ওই অ্যাপের উৎস, পরিচালনাকারী চক্র এবং সম্ভাব্য পাচার নেটওয়ার্কের খোঁজ শুরু হয়েছে।

তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, পাচারকারীরা কোথা থেকে এই কার্যকলাপ পরিচালনা করছিল এবং এর সঙ্গে আন্তঃরাজ্য বা আন্তর্জাতিক কোনও চক্র জড়িত কি না।

পুলিশের পরামর্শ

  • অপরিচিত অ্যাপ বা অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না

  • বিদেশে কাজ বা প্রশিক্ষণের প্রলোভন এলে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করুন

  • নাবালকদের অনলাইন যোগাযোগের উপর নজর রাখুন

  • সন্দেহজনক কোনও প্রস্তাব পেলে অবিলম্বে পুলিশকে জানান