নিউজ ইউ এ পি অনলাইন ডেস্ক: শ্রাবণীমেলাকে সামনে রেখে জল্পেশ মন্দির চত্বরে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও সুবিধার কথা মাথায় রেখে এবার গর্ভগৃহে নামার সিঁড়িতে বসানো হচ্ছে প্লাস্টিকের আধুনিক কার্পেট। পাশাপাশি অতিরিক্ত আলো, ব্যারিয়ার ও সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।(Jalpesh Temple)
মন্দির ট্রাস্টি বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, অতীতে শ্রাবণীমেলার সময় গর্ভগৃহে নামার সিঁড়িতে ভিড়ের চাপে হুড়োহুড়ি ও পিছলে পড়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
১২ ফুট নীচে গর্ভগৃহ
জল্পেশ মন্দিরের গর্ভগৃহ মাটি থেকে প্রায় ১২ ফুট নীচে অবস্থিত। পুণ্যার্থীদের সিঁড়ি বেয়ে নেমে শিবলিঙ্গে জল ঢালতে হয় এবং পরে পশ্চিম দিকের সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে বেরিয়ে আসতে হয়।
শ্রাবণ মাসে ভক্তরা জল, দুধ ও অন্যান্য পুজোর সামগ্রী নিয়ে গর্ভগৃহে প্রবেশ করেন। ফলে সিঁড়িতে জল পড়ে তা অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে যায়। একসঙ্গে অনেক পুণ্যার্থী নামতে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
গত বছরের পরীক্ষামূলক উদ্যোগে মিলেছিল সাফল্য
গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি ধাপে প্লাস্টিকের কার্পেট লাগানো হয়েছিল। তাতে ভালো ফল মেলায় এবার পুরো সিঁড়িজুড়েই কার্পেট বসানো হচ্ছে।
ট্রাস্টি বোর্ডের আশা, এর ফলে—
-
সিঁড়ি আর পিচ্ছিল হবে না
-
পুণ্যার্থীদের ওঠানামা নিরাপদ হবে
-
গর্ভগৃহে প্রবেশের লাইন দ্রুত এগোবে
-
হুড়োহুড়ির সম্ভাবনা কমবে
খালি পায়ে ভক্তদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
শ্রাবণ মাসে অধিকাংশ ভক্ত খালি পায়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন। গরম পাকা মেঝেতে যাতে পা না পুড়ে যায়, তার জন্য মন্দির চত্বরে নিয়মিত পাইপ দিয়ে জল ছিটানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ব্যারিয়ার, আলো ও সিসিটিভি
গিরীন্দ্রনাথ দেব বলেন,
“পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য সিঁড়িতে প্লাস্টিকের কার্পেট বসানো হচ্ছে। মন্দির চত্বরে অতিরিক্ত আলো, ব্যারিয়ার ও সিসিটিভি ক্যামেরাও লাগানো হচ্ছে।”
মন্দিরের ভিতরে ভিড় নিয়ন্ত্রণে ট্রাস্টি বোর্ডের নিজস্ব ব্যারিয়ার বুধবার থেকে বসানোর কাজ শুরু হবে। ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত লাইট ও নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে।
শ্রাবণীমেলাকে ঘিরে প্রশাসনিক নজরদারি
শ্রাবণ মাসে হাজার হাজার ভক্ত জল্পেশ মন্দিরে জলঢালার জন্য আসেন। সেই ভিড় সামাল দিতে মন্দির কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি প্রশাসনও প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
সব মিলিয়ে এবারের শ্রাবণীমেলায় পুণ্যার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তুলতেই এই একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
