নিউজ ইউ এ পি অনলাইন ডেস্ক: শিলিগুড়ি: ভিনরাজ্যের ব্যবসায়ীদের সরাসরি ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়ে কিছু অসাধু মহলের ফায়দা লোটার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল শিলিগুড়ি নিয়ন্ত্রিত বাজার। মঙ্গলবার এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে পথ নামেন ‘শিলিগুড়ি নিয়ন্ত্রিত বাজার ফ্রুট অ্যান্ড ভেজিটেবল কমিশন এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এর সদস্যরা। সমস্যা নিয়ে দু’পক্ষই নিয়ন্ত্রিত বাজারের সচিবের দ্বারস্থ হলে তাঁর ঘরের ভেতরেই চরম বাদানুবাদ শুরু হয়।(MarketClash)
সরাসরি ফল বিক্রির অভিযোগ
স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের অভিযোগ, নিয়ন্ত্রিত বাজারের ফল বাজারে কাশ্মীর, ঝাড়খণ্ড, দিল্লি সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে আপেল, লেবু, আমের মতো ফলের গাড়ি ঢুকছে。 কিন্তু নিয়ম ভেঙে সেই সমস্ত রাজ্যের ব্যবসায়ীরা স্থানীয় এজেন্টদের এড়িয়ে সরাসরি ফল বিক্রি করছেন। এর ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাঁদের প্রাপ্য কমিশন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অভিযোগ ওঠে, ভিনরাজ্যের এই ব্যবসায়ীরা স্থানীয় কয়েকজন স্টল মালিকের ঘর ভাড়া নিয়ে এই কাজ চালাচ্ছেন। এদিন কোন কোন মালিক স্টল ভাড়া দিয়েছেন, তা হাতেনাতে ধরতে গেলেই দু’পক্ষের মধ্যে ঝামেলা বেঁধে যায়।
দু’পক্ষের পাল্টা দাবি
ব্যবসায়ী সংগঠনের সম্পাদক শিব কুমার স্পষ্ট জানান, “বাজারে যে কেউ নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে পারেন। কিন্তু ভিনরাজ্যের ব্যবসায়ীরা সরাসরি নিজেদের মাল এনে এখানে বিক্রি করতে পারবেন না, তাঁদের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমেই বিক্রি করতে হবে।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত স্টল মালিকদের অন্যতম চিন্টু সিংয়ের দাবি, সরাসরি কোনও ব্যবসা হচ্ছে না। তাঁর স্টলে ভিনরাজ্যের ব্যবসায়ী বসে থাকার অর্থ এই নয় যে তিনি নিজে বিক্রি করছেন, তিনি মূলত এজেন্টের মাধ্যমেই ব্যবসা করছেন। পাল্টা অভিযোগ তুলে চিন্টু বলেন, সংগঠনের অনেক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধেই চাষিদের টাকা বকেয়া রাখার এবং কম টাকা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
প্রশাসনের কড়া বার্তা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিয়ন্ত্রিত বাজারের এক আধিকারিক জানান, দু’পক্ষকে নিজেদের মধ্যে কথা বলে দ্রুত সমস্যা মিটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা না হলে প্রশাসন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপশি, আসল স্টল মালিক কারা, কারা বেআইনিভাবে তা ভাড়া দিয়েছেন এবং কার কত ভাড়া বকেয়া রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।
