নিউজ ইউ এ পি অনলাইন ডেস্ক: প্রয়োজন থাকলেও বাঁশঝাড়ে কুঠার চালান না তাঁরা। কয়েকশো পাখির নিরাপদ আশ্রয় রক্ষার জন্য নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছেন তিন ভাই। জলপাইগুড়ির ক্রান্তি ব্লকের বাসুসুবা গ্রামে গত প্রায় তিন দশক ধরে পরিবেশ সংরক্ষণের এক অনন্য নজির গড়ে তুলেছেন আমিরুল হক, ফজলুল হক ও ফিকারুল হক।(Bird Conservation)
তিস্তা পাড়ের এই গ্রামে তাঁদের দুই বিঘা জমির বাঁশঝাড় এখন বক, শামুকখোল, নাইট হেরন, কাক ও বাদুড়সহ নানা প্রজাতির পাখির নিরাপদ আবাসস্থল। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে এখানে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০টি পাখি রয়েছে।

বর্ষা এলেই মুখরিত হয় বাঁশবাগান
বর্ষাকাল শুরু হলেই বাসুসুবা গ্রামের এই বাঁশঝাড়ে ভিড় জমায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। বাঁশের ডগায় ডিম পাড়া, ছানা ফোটানো এবং তাদের কিচিরমিচির ডাক গোটা এলাকাকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
বাগানজুড়ে রয়েছে কদম, লটকা, ডুমুরসহ নানা ফলের গাছ, যা পাখিদের খাদ্য ও আশ্রয়ের প্রধান উৎস।
বাবার রেখে যাওয়া সম্পদ আগলে রেখেছেন তিন ভাই
এই বাগানের আদি মালিক ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা হাবিরউদ্দিন মোহাম্মদ। তাঁর সময় থেকেই জায়গাটি পাখিদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত ছিল। পরে বংশপরম্পরায় সম্পত্তির মালিক হওয়ার পর তাঁর তিন ছেলে বাবার সেই প্রাকৃতিক সম্পদ অক্ষত রেখেছেন।
বাঁশবাগানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য
প্রায় ২ বিঘা জমি
২৫০–৩০০টি পাখির আশ্রয়
বক ও শামুকখোলের বাসা
নাইট হেরন ও বাদুড়ের উপস্থিতি
কদম, লটকা ও ডুমুর গাছ পাখিদের খাদ্যের উৎস

বন্যা, শিকারি— তবু টিকে আছে আশ্রয়
তিস্তা পাড়ের এই অঞ্চলে প্রতি বছর বন্যা হলেও পাখিদের এই আস্তানা আজও অক্ষত রয়েছে। শিকারিদের উপদ্রব রুখতে তিন ভাইয়ের পাশাপাশি গোটা গ্রামের মানুষই এখন প্রহরীর ভূমিকা নিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সামারু রায় জানান, অতীতে কয়েকজন শিকারি ধরা পড়ার পর এলাকায় তাদের আনাগোনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
“কয়েকটা বাঁশ কেটে লাভ, কিন্তু পরিবেশ হারালে সব শেষ”
ফজলুল হকের কথায়,
“কয়েকটা বাঁশ বা গাছ কেটে সাময়িক লাভ হতে পারে, কিন্তু এই পরিবেশ একবার ধ্বংস হয়ে গেলে তা আর ফিরে পাওয়া যাবে না।”
বন দপ্তরের প্রশংসা
লাটাগুড়ি রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দত্ত বলেন,
পরিবেশ সংরক্ষণের অনুপ্রেরণা
নিজেদের জমির অর্থনৈতিক ব্যবহার না করে তিন ভাই যেভাবে পাখিদের জন্য এই পরিবেশ রক্ষা করে চলেছেন, তা বর্তমান সময়ে পরিবেশ সংরক্ষণের এক বিরল উদাহরণ। স্থানীয়দের মতে, বাসুসুবা গ্রামের এই বাঁশবাগান এখন শুধু পাখিদের আশ্রয় নয়, বরং মানুষের প্রকৃতিপ্রেমেরও প্রতীক।
