নিউজ ইউ এ পি অনলাইন ডেস্ক: দারিদ্র্য যে সাফল্যের পথে কোনো বাধা নয়, তা ফের প্রমাণ করলেন কোচবিহারের তুফানগঞ্জের বক্সিরহাটের ছাত্র তুষার দেবনাথ। পেশায় সবজি বিক্রেতার ছেলে তুষার সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট)-এ ৭২০-এর মধ্যে ৬৭০ নম্বর পেয়ে সর্বভারতীয় স্তরে ৫১১ র্যাংক অর্জন করেছেন।ওবিসি ক্যাটিগোরিতে তিনি ১৫৮তম স্থান অধিকার করে রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।(NEET 2026)
টিনের ঘর থেকেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন
তুষারের বাবা তপন দেবনাথ বাজারে সবজি বিক্রি করেন এবং মা অঞ্জনা দেবনাথ গৃহবধূ। অভাবের সংসারে বক্সিরহাট থানার লিচুতলা এলাকার একটি টিনের ঘরে বসেই তিনি নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও পড়াশোনায় কখনও পিছিয়ে পড়েননি তুষার।
তুষারের সাফল্যের ঝুলি
|
পরীক্ষা |
অর্জন |
|---|---|
|
মাধ্যমিক ২০২৩ |
রাজ্যে নবম |
|
উচ্চমাধ্যমিক ২০২৫ |
রাজ্যে দ্বিতীয় |
|
নিট ২০২৬ |
এআইআর ৫১১, ওবিসি ১৫৮ |
“গরিব রোগীদের পাশে দাঁড়াতে চাই”
সাফল্যের পর তুষার বলেন,
“অনেক রোগী অর্থের অভাবে সঠিক চিকিৎসা পান না। ডাক্তার হয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।”
এই দীর্ঘ লড়াইয়ে মা-বাবা ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণাকেই তিনি সাফল্যের প্রধান শক্তি বলে মনে করেন।
বাবার চোখে গর্বের জল
ছেলের সাফল্যে আপ্লুত বাবা তপন দেবনাথ বলেন,
“সংসারে অনেক অভাব ছিল। তবু ছেলের পড়াশোনার জন্য কখনও হাল ছাড়িনি। বাজারে ক্রেতারা যখন আমার ছেলের প্রশংসা করেন, তখন সব কষ্ট ভুলে যাই।”
বক্সিরহাটে খুশির হাওয়া
তুষারের এই সাফল্যে তুফানগঞ্জ ব্লকের বক্সিরহাট এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রত্যন্ত গ্রামের একটি টিনের ঘর থেকে উঠে এসে তিনি শুধু পরিবারের নয়, গোটা কোচবিহার জেলার গর্ব হয়ে উঠেছেন।
অনুপ্রেরণার নাম তুষার
সবজি বিক্রেতার ছেলে হয়েও রাজ্যের অন্যতম মেধাবী ছাত্র হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তুষার দেবনাথ। তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে দিয়েছে—স্বপ্ন বড় হলে অভাবও তাকে আটকে রাখতে পারে না।
