https://newsuap.news/wp-content/uploads/2026/07/hedar-1-1.jpg

Banarhat | বানারহাটে এক পরিবারের তিন সদস্যের রহস্যমৃত্যু, শোকস্তব্ধ এলাকা

নিউজ ইউ এ পি অনলাইন ডেস্ক: জলপাইগুড়ির বানারহাট ব্লকের পূর্ব দুরামারি এলাকায় একই পরিবারের তিন সদস্যের পরপর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী, স্ত্রী এবং দেওরের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ পারিবারিক সম্পর্ক, ব্যক্তিগত টানাপোড়েন এবং মোবাইল ফোনে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখছে।(Banarhat)

মোরাঘাট জঙ্গল থেকে উদ্ধার দেহ

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার। বানারহাট থানা এলাকার মোরাঘাট জঙ্গল থেকে ৩৭ বছর বয়সী চুমকি রায়-এর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, মৃতার ১৪ বছরের ছেলে দাবি করেছে যে ঘটনার দিন তার বাবা বিমল রায় তাকে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছিলেন। সেই বার্তায় তিনি স্ত্রীকে খুন করার কথা স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ।

পরদিন উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ

ছেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও বনদপ্তর যৌথভাবে তল্লাশি চালায়। পরের দিন একই জঙ্গল থেকে বিমল রায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, স্ত্রীকে খুন করার পর তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।

শেষকৃত্যের শ্মশানেই আরও এক মৃত্যু

স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার ফের নতুন মোড় নেয় ঘটনাটি। যে শ্মশানে চুমকি রায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল, সেখানেই গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার হয় বিমল রায়ের ভাই সনাতন রায়-এর দেহ।

স্থানীয়রা দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

মোবাইল ফোনে মিলল গুরুত্বপূর্ণ সূত্র

তদন্তে নেমে পুলিশ সনাতন রায়ের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, আত্মহত্যার আগে তিনি নিজের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে চুমকি রায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের কিছু ছবি পোস্ট করেছিলেন।

মৃতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের প্রকৃতি এবং এই তিনটি মৃত্যুর সঙ্গে সেই সম্পর্কের কোনো যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার সময়রেখা

৪৮ ঘণ্টা

দিন

ঘটনা

বুধবার

মোরাঘাট জঙ্গল থেকে চুমকি রায়ের দেহ উদ্ধার

বৃহস্পতিবার

জঙ্গল থেকে বিমল রায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

শুক্রবার

শ্মশানে সনাতন রায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

অনাথ হল ১৪ বছরের কিশোর

এই ঘটনায় সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় পড়েছে দম্পতির ১৪ বছরের ছেলে। বাবা, মা এবং কাকাকে হারিয়ে সে এখন সম্পূর্ণ অনাথ। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে তার ভবিষ্যৎ সুরক্ষার ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়েছেন।

রহস্যের জট খুলতে তদন্ত

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুনের অভিযোগ, পরপর দুই আত্মহত্যা, পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মোবাইল ফোনে পাওয়া তথ্য—সব কিছু মিলিয়ে তদন্তকারীরা ঘটনার পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছেন।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং তিনটি ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।