নিউজ ইউ এ পি অনলাইন ডেস্ক: উত্তরবঙ্গ সফরে এসে সীমান্ত নিরাপত্তা ও শিলিগুড়ি করিডর (চিকেনস নেক) রক্ষাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র সঙ্গে তাঁর বৈঠকে সীমান্তে নজরদারি, অনুপ্রবেশ রোধ এবং পাচার ঠেকানো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, বৈঠকে বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল ও চিন সীমান্ত সংলগ্ন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।(Chicken’s Neck)
চিকেনস নেক কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
শিলিগুড়ি করিডর ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির সঙ্গে যুক্ত করেছে। প্রতিরক্ষার দিক থেকে এটি দেশের অন্যতম সংবেদনশীল এলাকা। এতদিন মূলত চিন সীমান্তকে ঘিরে নজরদারি হলেও বর্তমানে বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপাল সীমান্তের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিজেপি সূত্রে খবর, শাহ ও মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে এই করিডরকে আরও সুরক্ষিত রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখলেন শাহ
শনিবার সকালে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পরিদর্শন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জামুড়িয়া ভিটা ও সন্ন্যাসীকাঁটা-সহ কাঁটাতার লাগোয়া কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখেন।
পরে জুমাগাছ বর্ডার আউটপোস্ট-এ গিয়ে বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন।
অমিত শাহের উত্তরবঙ্গ সফরের মূল স্থানগুলি

আধুনিক সীমান্ত সুরক্ষা প্রযুক্তি পর্যালোচনা
শাহ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আধুনিক সীমান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থাও ঘুরে দেখেন। তিনি পর্যালোচনা করেন—
-
অনুপ্রবেশ সতর্কীকরণ ব্যবস্থা
-
রেডিয়ো-ভিত্তিক কাঁটাতার অনুপ্রবেশ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি
-
গেট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার
-
সীমান্ত নজরদারির ডিজিটাল ব্যবস্থা
বৈঠকে যেসব বিষয় উঠে এল
উত্তরকন্যার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দুই দিনাজপুর ও মালদহের জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
আলোচনার প্রধান বিষয়
সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি
অনুপ্রবেশ রোধ
গুন্ডাদমন আইন
জন্ম-মৃত্যুর নথি ডিজিটাইজেশন
অবৈধ ভোটার সংক্রান্ত বিষয়
আধার কার্ড যাচাই
পাচার রোধে ‘জিরো টলারেন্স’
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিএসএফ, এসএসবি, রেল-সহ বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকেও “জিরো টলারেন্স” নীতির কথা বলা হয়েছে। চিকেনস নেক করিডরে পাচার রোধে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে “ফ্রি হ্যান্ড” দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশ অনুযায়ী, পাচারের খবর যে দফতরের কাছে প্রথম পৌঁছবে, তারাই অবিলম্বে ব্যবস্থা নেবে।

অনুপ্রবেশ রুখতে নতুন পদক্ষেপের ইঙ্গিত
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, জন্ম-মৃত্যুর নথি ডিজিটাইজেশন নিয়ে আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করে অনুপ্রবেশ রোধ করা। অতীতে বাংলাদেশ থেকে নকল নথির সাহায্যে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তরবঙ্গের সীমান্ত নিরাপত্তা ও শিলিগুড়ি করিডরকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আগামী দিনে আরও কঠোর নজরদারির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
