https://newsuap.news/wp-content/uploads/2026/07/hedar-1-1.jpg

Deepak Barman | তৃতীয় শ্রেণিতেই মাতৃভাষার দক্ষতার অডিট, ব্যর্থ হলে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন

নিউজ ইউএপি অনলাইন ডেস্ক | ফালাকাটা 

রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষায় মাতৃভাষার দক্ষতা নিশ্চিত করতে এবার কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। রবিবার ফালাকাটায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, রাজ্যের সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়াদের ভাষাগত দক্ষতার অডিট করা হবে। অডিটে কোনও পড়ুয়া যদি মাতৃভাষা সঠিকভাবে পড়তে বা লিখতে না পারে, তাহলে সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, যেসব স্কুল ভালো ফল করবে, তাদের পুরস্কৃত করা হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।(Deepak Barman)

শিক্ষা দপ্তরের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, বর্তমানে বহু পড়ুয়া উচ্চ শ্রেণিতে উঠে গেলেও মাতৃভাষায় সাবলীল নয়। এর প্রভাব পড়ছে গণিত, বিজ্ঞান-সহ অন্যান্য বিষয় শেখার ক্ষেত্রেও। জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP)-২০২০ অনুযায়ী শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম তার মাতৃভাষা। সেই নীতির ভিত্তিতেই তৃতীয় শ্রেণিকে মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ স্তর হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এই অডিটের মাধ্যমে প্রতিটি স্কুলে ভাষা শিক্ষার প্রকৃত মান যাচাই করা হবে। যেখানে দুর্বলতা ধরা পড়বে, সেখানে বিশেষ পাঠদান, অতিরিক্ত শিক্ষাসামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। তবে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

মন্ত্রীর এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ। সংগঠনের আলিপুরদুয়ার জেলা যুগ্ম সম্পাদক সুমন্ত সিংহ বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে এই উদ্যোগ ইতিবাচক।

অন্যদিকে, নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের জেলা সম্পাদক প্রসেনজিৎ রায় বলেন, “বেশিরভাগ পড়ুয়াই আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবার থেকে আসে। শুধুমাত্র শিক্ষকদের দায়ী না করে সামাজিক ও পারিবারিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।”

শিক্ষামন্ত্রীর আরও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা

ফালাকাটার সম্মেলনে শিক্ষক বদলি ও নিয়োগ নিয়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী।

  • সারপ্লাস ট্রান্সফার: সারপ্লাস শিক্ষক নির্ধারণে সিনিয়র শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সিনিয়র শিক্ষক রাজি না হলে তবেই জুনিয়রদের বিবেচনা করা হবে।
  • নিজ জেলায় বদলি: দূরের জেলায় কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিজ জেলায় শূন্যপদ থাকলে বদলির আবেদন ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে। বিবাহজনিত কারণে কর্মরত পার্শ্বশিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হতে পারে।
  • এসএসসি নিয়োগ: ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নতুন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।