https://newsuap.news/wp-content/uploads/2026/07/hedar-1-1.jpg

Joyjit Chowdhury Fraud Case | আলিপুরদুয়ার বিএড কলেজের ৬ কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ, প্রাক্তন এএজি জয়জিৎ চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা

নিউজ ইউএপি অনলাইন ডেস্ক | শিলিগুড়ি | 

আলিপুরদুয়ার বিএড ট্রেনিং কলেজের কোটি টাকার সম্পত্তি বেআইনিভাবে বিক্রি এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে আইনি জটিলতায় জড়ালেন জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের সদ্য প্রাক্তন অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল (এএজি) জয়জিৎ চৌধুরী। সরকারি পদের অপব্যবহার, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আলিপুরদুয়ার থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। মামলায় আরও অভিযুক্ত করা হয়েছে উপল সামন্ত, সঞ্জয় ভট্টাচার্য এবং জয়ন্ত চক্রবর্তীকে।(Joyjit Chowdhury Fraud Case)

অভিযোগ অনুযায়ী, আলিপুরদুয়ার বিএড ট্রেনিং কলেজের প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের জমি ও ভবন বিচারাধীন অবস্থাতেই মাত্র ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে কম দামে সম্পত্তি বিক্রি করে বিপুল অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই এই লেনদেন করা হয়েছিল।

জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের ১৭ মে সজল সরকার নামে এক ব্যক্তি প্রথম আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু দীর্ঘ চার বছর কেটে গেলেও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের দ্বারস্থ হন।

গত ২ জুলাই বিচারপতি অমৃতা সিনহা ও বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। আদালত পুলিশ সুপারকে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং রাজ্যের এএজি-কে সেই রিপোর্ট সংগ্রহ করে আদালতে পেশ করতে বলে।

আদালতের নির্দেশের পর ১৪ জুলাই অভিযোগকারী সজল সরকারকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র-সহ থানায় ডাকা হয়। সমস্ত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের পর ১৬ জুলাই ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪১৯ (ভুয়ো পরিচয়), ৪২০ (প্রতারণা), ৪৬৮ (জালিয়াতি), ৪৭১ (জাল নথি ব্যবহার) এবং ১২০-বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ।

এই ঘটনায় আইনজীবী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত জয়জিৎ চৌধুরীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগকারী সজল সরকার জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সমস্ত নথি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল জাগৃতি মিশ্র জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ অনুসারেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।