নিউজ ইউএপি অনলাইন ডেস্ক |দিনহাটা: পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কোচবিহারের দিনহাটার নাজিরহাট। বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে একাধিক ব্যক্তি জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তিরবিদ্ধ হয়েছেন শান্তি তালুকদার নামে এক বিজেপি মহিলা কর্মী। তাঁকে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসা করা হচ্ছে।(Dinhata )
বৃহস্পতিবার নাজিরহাট-২ অঞ্চলের সালমারা গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনের কথা ছিল। বোর্ডের প্রধান কে হবেন, তা নিয়ে বিজেপির দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ থেকেই উত্তেজনার সূত্রপাত বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি।
প্রধান নির্বাচন ঘিরেই গোষ্ঠী কোন্দল
বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, দলীয়ভাবে যূথিকা বর্মনকে পঞ্চায়েত প্রধান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার তিনি তাঁর সমর্থকদের নিয়ে পঞ্চায়েত ভবনে উপস্থিত হন।
অভিযোগ, তরণীকান্ত বর্মনের নেতৃত্বাধীন একদল লোক সেখানে যূথিকা ও তাঁর সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। সংঘর্ষের সময় শান্তি তালুকদারকে লক্ষ্য করে অজ্ঞাতপরিচয় কেউ তির ছোড়ে বলে অভিযোগ। তাঁর কোমরে তির লাগে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইট-পাটকেল ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। এমনকি গুলি চলার অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে গুলি চলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
দুই বিজেপি নেতার বিরোধের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিজেপির ৬ নম্বর মণ্ডল সভাপতি কৃষ্ণ বর্মন এবং বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য তরণীকান্ত বর্মনের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই এই সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত অশান্তির কারণে সালমারা গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়।
বিজেপি নেতা কৃষ্ণ বর্মনের অভিযোগ, তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা কয়েক জনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর কথায়, দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলা উচিত এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হবে।
অন্যদিকে, বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য তরণীকান্ত বর্মনের দাবি, জেলা সভাপতির নির্দেশেই তিনি অঞ্চল অফিসে গিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, বোর্ড গঠন শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল। বাইরে থেকে কিছু লোক এসে গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করে।
কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিনহাটা মহকুমা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী পঞ্চায়েত অফিসে পৌঁছয়। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।
দিনহাটা থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অশান্তিতে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েক জনকে আটক করা হয়েছে।
ঘটনার জেরে এলাকায় এখনও উত্তেজনা রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে পুলিশ ও প্রশাসন।
