https://newsuap.news/wp-content/uploads/2026/07/hedar-1-1.jpg

Kaliachak | ঘুমের মধ্যে জানালা দিয়ে হামলা, ধারালো অস্ত্রের কোপে যুবকের মৃত্যু; চাঞ্চল্য কালিয়াচকে

নিউজ ইউ এ পি অনলাইন ডেস্ক: মালদহের কালিয়াচকে ঘুমের মধ্যে এক যুবকের উপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, মাঝরাতে বাড়ির জানালার কাছে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারে দুষ্কৃতীরা। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয় ওই যুবকের। মৃতের নাম রহিমুল শেখ (৩০)। বাড়ি মালদহের সুজাপুর-এর দক্ষিণ চাশপাড়া এলাকায়।(Kaliachak)

মাঝরাতে জানালা দিয়ে হামলার অভিযোগ

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে কাজ সেরে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন রহিমুল। অভিযোগ, রাত প্রায় ১টা নাগাদ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন দুষ্কৃতী বাড়ির জানালার কাছে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথা ও কানের গোড়ায় একের পর এক কোপ মারে।

আচমকা হামলায় রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাঁকে সুজাপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র-এ নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ স্থানান্তরিত করা হয়।

কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু

চিকিৎসকরা জানান, রহিমুলের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার পথে বেলডাঙা এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।

পরিবারের দাবি, দ্রুত গ্রেফতার হোক দুষ্কৃতীরা

মৃতের শ্বশুর সোহরাব মোমিন বলেন,

“রাতে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই ঘুমিয়ে ছিলেন। আচমকা জানালা দিয়ে হামলা চালানো হয়। রহিমুল স্থানীয় একটি ধরম কাঁটায় কাজ করতেন। কারা এই হামলা চালিয়েছে তা আমরা জানি না। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।”

মৃতের দাদা বাবুল শেখ জানান, রাত দেড়টা নাগাদ ফোনে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছন। এরপর আহত রহিমুলকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি।

তদন্ত শুরু পুলিশের

ঘটনার পর কালিয়াচক থানা-র পুলিশ এলাকায় পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। হামলার নেপথ্যে ব্যক্তিগত শত্রুতা, আর্থিক লেনদেন নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জেরে সুজাপুর এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।