https://newsuap.news/wp-content/uploads/2026/07/hedar-1-1.jpg

Annapurna Yojana Portal Edit | অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ, ক্ষোভ প্রশমনে পোর্টালে ‘এডিট’ অপশন আনছে নবান্ন

নিউজ ইউ এ পি অনলাইন ডেস্কঃ ভোটের পর রাজনৈতিক নেতাদের ওপর ডিম হামলার ঘটনা আকছার ঘটলেও, এবার সেই ‘ডিম থেরাপি’র মুখে পড়তে হলো সরকারি আধিকারিক ও কর্মচারীদের। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না-মেলায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবারও জেলায় জেলায় এই যোজনা থেকে বঞ্চিত মহিলারা বিডিও এবং পুরকর্মীদের লক্ষ্য করে কাঁচা ডিম ছুড়ে বিক্ষোভ দেখান, কোথাও আবার পঞ্চায়েত প্রধানকে ঘেরাও করে রাখা হয় (Annapurna Yojana Portal Edit)

প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মহিলারা যখন উদ্বিগ্ন, তখন নবান্ন অভয় দিয়ে জানিয়েছে যে শঙ্কার কোনও কারণ নেই। যোগ্য ১ কোটিরও বেশি মহিলা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমনে অন্নপূর্ণা যোজনার পোর্টালে একটি নতুন ‘এডিট’ (বিকল্প) অপশন যুক্ত করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে আবেদনকারীরা নিজেদের ভুল তথ্য সংশোধন করতে পারবেন।

পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ মহিলা প্রতি মাসে গড়ে ১,৫০০ টাকা পেতেন, যার বার্ষিক খরচ ছিল ৩৯,৬০০ কোটি টাকা। রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকার তাদের প্রথম বাজেটে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ৩৬,৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি যোগ্য মহিলারা মাসে ৩,০০০ টাকা করে পাবেন।

নবান্নের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীর ভান্ডারে অনেক ‘অযোগ্য’ ও রোজগেরে গিন্নিরাও সুবিধা পেতেন। নতুন নিয়মে সরকারি কর্মী এবং আয়করদাতাদের এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ মহিলা এই সুবিধা পাবেন, যার জন্য বার্ষিক খরচ হবে প্রায় ৬১,২০০ কোটি টাকা। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যে এখন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুবিধা থাকায় এই বাড়তি খরচ জোগাতে কোনও সমস্যা হবে না।

কেন বাতিল হচ্ছে আবেদন?

মুখ্যসচিব মনোজকুমার অগ্রবাল জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৬২ লক্ষ মহিলার আবেদন জমা পড়েছে, যার মধ্যে ১ কোটি ২২ লক্ষ অনুমোদিত হয়েছে এবং ২৭ লক্ষের বেশি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে এই বাতিল হওয়া আবেদনপত্রগুলি যাচাইয়ের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

আমলাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আবেদন বাতিলের অন্যতম বড় কারণ হলো আধার কার্ড ও মোবাইল নম্বরের অসঙ্গতি

  • অনেকে লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন, কিন্তু আধার কার্ডের সঙ্গে মোবাইল নম্বর যুক্ত ছিল না।
  • কেউ কেউ আবার পিএম কিসান যোজনায় যে নম্বর ব্যবহার করেছেন, সেটিই এখানে দিয়েছেন, যার ফলে ডেটা ওভারল্যাপ হচ্ছে।

‘এডিট’ অপশনেই কাটবে বিভ্রান্তি

নবান্ন জানিয়েছে, বহু মহিলা জুন মাসে টাকা পেলেও জুলাইতে পাননি, কারণ তথ্য যাচাইয়ের সময় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গরমিল ধরা পড়েছে। এবার পোর্টালে ‘এডিট’ অপশন চালু হলে আবেদনকারীরা লগ-ইন করে দেখতে পাবেন কেন তাদের আবেদন বাতিল হয়েছে এবং তারা নিজেরাই ভুল তথ্য শুধরে নিতে পারবেন। ফলে দ্রুত এই বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ মিটে যাবে বলে আশাবাদী প্রশাসন।