https://newsuap.news/wp-content/uploads/2026/07/hedar-1-1.jpg

coochbehar awas yojana survey | আবাস যোজনার সমীক্ষায় গিয়ে রক্তারক্তি কাণ্ড! সরকারি কর্মীর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা, গ্রেফতার উপভোক্তা

নিউজ ইউ এ পি অনলাইন ডেস্কঃ বক্সিরহাট: সরকারি নির্দেশ মেনে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার কাজ খতিয়ে দেখতে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়লেন এক প্রশাসনিক আধিকারিক। টাকা পাওয়ার পরেও কেন ঘরের কাজ শেষ হয়নি— এই সাধারণ প্রশ্ন করতেই মেজাজ হারিয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হলেন উপভোক্তা। তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের ভানুকুমারী-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ছাট বালাকুঠি এলাকার এই ঘটনায় বুধবার রাতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।(coochbehar awas yojana survey)

আক্রান্ত আধিকারিককে বাঁচাতে গিয়ে এক প্রতিবেশীর চারটি দাঁত ভেঙে গিয়েছে বলেও অভিযোগ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত নারায়ণ বর্মনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে বক্সিরহাট থানার পুলিশ।(coochbehar awas yojana survey)

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্লক প্রশাসনের নির্দেশে গতকাল আবাস যোজনার উপভোক্তাদের বাড়ি বাড়ি সমীক্ষায় বেরিয়েছিলেন নির্বাহী সহায়ক (Executive Assistant) সুবল চন্দ্র রায়। আবাস যোজনার দুই কিস্তির টাকা উপভোক্তা পাওয়ার পর কতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখাই ছিল তাঁর কাজ। সেই মতো তিনি ছাট বালাকুঠি এলাকার উপভোক্তা নারায়ণ বর্মনের বাড়িতে পৌঁছান।

প্রশ্ন করতেই বিপত্তি, প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশীর ঘরে আশ্রয়

অভিযোগ, টাকা পাওয়ার পরেও কাজ কেন থমকে রয়েছে, সরকারি আধিকারিক সেই প্রশ্ন করতেই আচমকা মেজাজ হারান নারায়ণ বর্মন। কথাবার্তার মাঝেই হঠাৎ করে সুবলবাবুর সঙ্গে থাকা এক যুবকের ওপর হামলা চালানো হয়। এরপরই ঘর থেকে ধারালো অস্ত্র বের করে সরাসরি নির্বাহী সহায়কের ওপর চড়াও হন নারায়ণ। প্রাণ বাঁচাতে সুবলবাবু দৌড়ে পাশের প্রতিবেশী সুনীল বর্মনের বাড়িতে আশ্রয় নেন।

কিন্তু সেখানেও অভিযুক্ত তাঁর পিছু ধাওয়া করে। প্রতিবেশী সুনীলবাবু সরকারি কর্মীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁর মুখে সজোরে ঘুসি মারা হয়। যার ফলে সুনীলবাবুর চারটি দাঁত ভেঙে যায় এবং তিনি গুরুতর জখম হন।

অভিযুক্তের ঠাঁই জেল হেফাজতে

এই বর্বরোচিত ঘটনার পর বক্সিরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মূল অভিযুক্ত নারায়ণ বর্মনকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার ধৃতকে তুফানগঞ্জ মহকুমা দায়রা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ৭ দিনের বিচার বিভাগীয় হেপাজতের (Jail Custody) নির্দেশ দিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সরকারি আধিকারিকের সঙ্গে এমন হিংসাত্মক আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, ঘটনার কথা জানার পরেই পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সরকারি কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রশাসন তৎপর।