https://newsuap.news/wp-content/uploads/2026/07/hedar-1-1.jpg

Baruipur Encounter Specialist |পুলিশ কি দাঁড়িয়ে গুলি খাবে? বারুইপুর এনকাউন্টার প্রসঙ্গে মুখ খুললেন ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ দয়া নায়েক

নিউজ ইউ এ পি অনলাইন ডেস্কঃ বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের গভীর রাতে পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই এই ঘটনা উসকে দিয়েছে মুম্বইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ড কাঁপানো প্রাক্তন এসিপি (ACP) দয়া নায়েকের স্মৃতি। বাস্তবের এই ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’—যাঁর জীবন নিয়ে তৈরি হয়েছিল বলিউডের বিখ্যাত সিনেমা ‘অব তক ছপ্পন’—বারুইপুরের এই ঘটনা নিয়ে এবার এক্সক্লুসিভ প্রতিক্রিয়া দিলেন নিউজ১৮ বাংলায়।(Baruipur Encounter Specialist)

সরাসরি ও স্পষ্ট ভাষায় দয়া নায়েকের প্রশ্ন, “পুলিশের দিকে বন্দুক তাক করলে পুলিশ কি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গুলি খাবে?” তাঁর সাফ কথা, চরম পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে পুলিশের।

‘আইনি দাঁড়িপাল্লায় মেপেই পদক্ষেপ করে পুলিশ’

মহারাষ্ট্র পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার হিসেবে অবসর নেওয়া দয়া নায়েক নিউজ১৮ বাংলাকে বলেন, “যদি কারও প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়, তবে আইন মেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার অধিকার পুলিশের আছে। পুলিশ যা পদক্ষেপ করে, সবই আইনি দাঁড়িপাল্লায় মেপে দেখা হয়। আইন মেনে কাজ করতে পুলিশ বাধ্য।”

তাঁর সংযোজন, সশস্ত্র হামলাকারীর হাত থেকে বাঁচতে পুলিশ যদি বাধ্য হয়ে বল প্রয়োগ করে, তবে তাঁর মতে সেটি একদম সঠিক কাজ। পুলিশের দিকে গুলি চালানো অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ এবং সেই সময়ে আত্মরক্ষার তাগিদেই এই ধরনের পদক্ষেপ নিতে হয়।

রিয়ালের ‘অব তক আশি’

দয়া নায়েকের নিজের জীবন যেকোনো বলিউড সিনেমাকেও হার মানায়। কর্ণাটকের এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম নেওয়া দয়া সপ্তম শ্রেণী পাস করে মুম্বইয়ে আসেন রুটিরুজির সন্ধানে। হোটেলে কাজ করার পাশাপাশি রাতে পড়াশোনা চালিয়ে টুয়েলভ পাস এবং পরে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। ছোটবেলার পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন সত্যি হয় ১৯৯৫ সালে।

তখন মুম্বইয়ে দাউদ ইব্রাহিম বা ছোটা রাজনের ‘ডি কোম্পানি’র চরম দাপট। ১৯৯৬ সালে ছোটা রাজন গ্যাংয়ের সদস্যরা দয়া নায়েককে লক্ষ্য করে গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালিয়ে দুই গ্যাংস্টারকে খতম করেন তিনি। সেটিই ছিল তাঁর জীবনের প্রথম এনকাউন্টার। রূপোলী পর্দায় ‘অব তক ছপ্পন’ (৫৬) বলা হলেও বাস্তবে প্রায় ৮০টি এনকাউন্টার করেছেন এই দাপুটে পুলিশ অফিসার। ২০০৪ সালে মালাডের এক গ্যাংস্টারকে খতম করার পর তাঁর বন্দুক শান্ত হয়। গত বছরই চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি। আর এবার বারুইপুরের এনকাউন্টার প্রসঙ্গে বাংলার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের কড়া অবস্থান স্পষ্ট করলেন এই প্রাক্তন পুলিশকর্তা।