https://newsuap.news/wp-content/uploads/2026/07/hedar-1-1.jpg

Election Commission | তৃণমূলের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তে বিলম্ব, কবে শুরু হবে প্রকৃত অনুসন্ধান? প্রশ্নের মুখে কমিশন

নিউজ ইউ এ পি অনলাইন ডেস্ক,শিলিগুড়ি : রাজ্যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তে গঠিত কমিশনের কার্যক্রম এখনও শুরু না হওয়ায় প্রশাসনিক মহল থেকে রাজনৈতিক অঙ্গন— সর্বত্রই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে (Election Commission)। কমিশন গঠনের ঘোষণার পর এক মাসেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও তদন্ত কার্যত শুরু না হওয়ায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী শিবিরের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের একাংশও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

রাজ্য সরকার চলতি বছরের মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিশন গঠনের ঘোষণা করে। কমিশনের সদস্য-সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয় রাজ্য পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) কালিয়াপ্পন জয়ারামনকে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছিল, ১ জুন থেকে কমিশনের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হবে। কিন্তু জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও তদন্ত শুরু না হওয়ায় নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে।

সূত্রের খবর, কমিশনের জন্য শিলিগুড়ির হিমাচল বিহার এলাকায় একটি ভবন প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই ভবন পরিদর্শনও করা হয়েছে। তবে অফিস প্রস্তুতি, পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় কমিশনের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম এখনও শুরু করা যায়নি বলে জানা গেছে।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, দুর্নীতির মতো সংবেদনশীল বিষয়ে তদন্তে এই বিলম্ব জনমনে বিভ্রান্তি ও সন্দেহ তৈরি করছে। সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী নেতারা। তাদের দাবি, দ্রুত তদন্ত শুরু করে প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে আনা হোক।

অন্যদিকে রাজ্যের মন্ত্রী তথা প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা অশোক ভট্টাচার্য বলেন, “দুর্নীতির তদন্তে আর বিলম্ব হওয়া উচিত নয়। সত্য সামনে আনতে দ্রুত কমিশনের কাজ শুরু হওয়া প্রয়োজন।”

প্রসঙ্গত, এডিজি কালিয়াপ্পন জয়ারামন অতীতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দুর্নীতি মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে নতুন এই কমিশনের কাজ নিয়েও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তবে এখনও পর্যন্ত কমিশনের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরুর নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা করা হয়নি।

প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনআস্থা বজায় রাখতে কমিশনের দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন নজর রাজ্য সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং কমিশনের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর দিকেই।