https://newsuap.news/wp-content/uploads/2026/07/hedar-1-1.jpg

NH10Landslide | উত্তরবঙ্গে দুর্যোগ: ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস, জলমগ্ন কোচবিহার!

নিউজ ইউ এ পি অনলাইন ডেস্ক, শিলিগুড়ি:  দফায় দফায় ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পাহাড় থেকে উত্তরবঙ্গের সমতল। প্রবল বৃষ্টির জেরে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক জায়গায় ধস নেমে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। পাহাড়ি রাস্তায় নেমে এসেছে বিপুল পরিমাণ কাদামাটি ও বোল্ডার। অন্য দিকে, সমতলে মুষলধারে বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে কোচবিহার শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গে এখনই দুর্যোগ কাটার কোনও লক্ষণ নেই। আগামী সপ্তাহের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় জারি থাকবে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা।(NH10Landslide)

১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস, বিপর্যস্ত সিকিমগামী রুট

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির জেরে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের তিস্তাবাজার থেকে সিকিমগামী অংশের ২০ মাইল, মাঝেটার ও বাঘেখোলা এলাকায় বড়সড় ধস নামে। ২০ মাইল এলাকায় পাহাড় থেকে হুড়মুড়িয়ে নেমে আসা কাদামাটিতে একটি পণ্যবাহী ট্রাক আটকে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা ঝুঁকি নিয়ে সেই কাদা পেরিয়ে চলাচল করলেও যান চলাচলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরে সিকিম প্রশাসনের তরফে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাদামাটি সরিয়ে ‘ওয়ান ওয়ে’ ট্রাফিক ব্যবস্থার মাধ্যমে যান চলাচল আংশিক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হয়। তবে শুক্রবার বিকেলে মাঝেটার ও বাঘেখোলা এলাকায় নতুন করে পাহাড় থেকে বোল্ডারের বড় বড় চাঁই ধসে পড়ায় ধস সরানোর কাজ ফের শুরু করতে হয়েছে প্রশাসনকে। শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পং রুটে বড় সমস্যা না হলেও, সিকিমগামী সড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জলমগ্ন কোচবিহার, প্লাবনের আশঙ্কা

পাহাড়ে ধসের পাশাপাশি সমতলেও বৃষ্টির দাপট অব্যাহত। মাঝে কয়েক দিনের বিরতির পর বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টিতে জলমগ্ন কোচবিহার শহর। শহরের ২০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০টি ওয়ার্ডই এখন জলের তলায়। পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়া, মিনি বাস স্ট্যান্ড, সুভাষ পল্লি, অমর তলা সংলগ্ন এলাকার রাস্তায় প্রায় এক হাঁটু জল জমে রয়েছে। ফলে থমকে গিয়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। আপাতত তোরসা নদীর জলস্তর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আরও বৃষ্টি হলে বড়সড় প্লাবনের আশঙ্কা করছে জেলা প্রশাসন। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

হাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গে এখনই বৃষ্টি থামার কোনও সম্ভাবনা নেই। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে আগামী সপ্তাহের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত অতিভারী বৃষ্টি চলতে পারে। এ ছাড়া উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহেও আগামী কয়েক দিন বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে পাহাড়ি নদীগুলির জলস্তর দ্রুত বাড়তে পারে এবং পাহাড়ি রাস্তায় আরও ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও পর্যটকদের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।