নিউজ ইউএপি অনলাইন ডেস্ক | জলপাইগুড়ি
শিক্ষাবর্ষের শুরুতে বিনামূল্যে ডায়েরি দেওয়ার প্রচলন থাকলেও প্রায় সাত মাস পর ছাত্রদের কাছ থেকে ১২০ টাকা নিয়ে ডায়েরি বিক্রির অভিযোগ উঠল জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে। শুধু তাই নয়, এই টাকা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রসিদ দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার স্কুল চত্বরে বিক্ষোভ দেখান একাধিক অভিভাবক। এই বিতর্কে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন স্কুলের কয়েকজন শিক্ষকও।(Jalpaiguri District School )
জানা গিয়েছে, প্রতি বছর শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই স্কুলের পক্ষ থেকে ছাত্রদের একটি ডায়েরি দেওয়া হয়। সেই ডায়েরিতে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্যালেন্ডার, ছুটির তালিকা, পরীক্ষার সূচি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচির তথ্য থাকে। কিন্তু চলতি শিক্ষাবর্ষে নির্ধারিত সময়ে সেই ডায়েরি দেওয়া হয়নি।
অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রায় সাত মাস পর হঠাৎ করে ডায়েরির জন্য ১২০ টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। অভিযোগ, টাকা জমা দেওয়ার পরও কোনো রসিদ দেওয়া হচ্ছে না।
অভিভাবিকা কবিতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “প্রতিবছর এই ডায়েরি বিনামূল্যে দেওয়া হয়। অথচ এবার সাত মাস পর ১২০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। রসিদও দেওয়া হচ্ছে না। আমরা ডায়েরি নেব না বলে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু আমাদের অফিসে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি।”
আরেক অভিভাবক রঞ্জিত চক্রবর্তীও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, শিক্ষাবর্ষের মাঝপথে এভাবে টাকা নিয়ে ডায়েরি বিক্রি করা অনৈতিক এবং অযৌক্তিক।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষক ধর্মচাঁদ বারুইয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষকদের একাংশও। শিক্ষক বাপ্পা চক্রবর্তীর দাবি, একটি নোটিসে ডায়েরির পরিবর্তে ১২০ টাকা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে সেই নোটিসে অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকা স্বাক্ষর করেননি। তাঁর অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক নিজস্ব উদ্যোগে নতুন ডায়েরি ছাপিয়ে তা ছাত্রদের কাছে বিক্রির চেষ্টা করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ধর্মচাঁদ বারুইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুল চত্বরে চরম অসন্তোষের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অভিভাবকদের দাবি, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক শিক্ষা দপ্তর।
