গরুচোর সন্দেহে শিলিগুড়িতে গণপিটুনি, আগুনে পুড়িয়ে খুনের অভিযোগ! মৃত ২, থানায় আশ্রয় নিয়ে বাঁচলেন এক জন
নিউজ ইউএপি অনলাইন ডেস্ক, শিলিগুড়ি: গবাদিপশু পাচারের সন্দেহকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল শিলিগুড়ি সংলগ্ন মাটিগাড়া-বাগডোগরা এলাকা। অভিযোগ, সন্দেহভাজন কয়েকজনকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এক ব্যক্তিকে মারধর করে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত আরও কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানা গিয়েছে।(Crime)
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা শনাক্ত করতে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গোটা ঘটনার নেপথ্যে আসলে কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।স্থানীয়দের দাবি, নকশালবাড়ি, বাগডোগরা ও মাটিগাড়া এলাকায় বেশ কিছু দিন ধরেই রাতে গবাদিপশু পাচারের অভিযোগ উঠছিল। শুক্রবার গভীর রাতে তারাবাড়ি এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান এবং একটি চারচাকা গাড়ি ঢুকলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এরপর গাড়ি দু’টি ঘিরে ধরে উত্তেজিত জনতা।
অভিযোগ, প্রথমে পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভ্যানের চালক শহিদ আখতারকে ব্যাপক মারধর করা হয় এবং মাথায় ভারী পাথর দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা ছিলেন।অন্য একটি ছোট গাড়িতে চার জন ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাঁরা গাড়ি ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। জনতা তাঁদের ধাওয়া করে বাগডোগরা ধিমাল বস্তি এলাকায় পৌঁছয়। সেখানে ফের গণপিটুনির অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার মধ্যে একজন পালিয়ে পানিঘাটা থানায় আশ্রয় নেন বলে জানা গিয়েছে। বাকি তিনজনকে বাগডোগরা ও মাটিগাড়া থানার পুলিশ উদ্ধার করে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মধ্যে শাদ মহম্মদ নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। গাড়িতে থাকা আমির, শাদ মহম্মদ, আরিফ খান এবং আক্রম হরিয়ানার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে এসিপি ইস্ট অনির্বাণ মজুমদার জানান, ঘটনার সূত্রপাত মাটিগাড়ার তারাবাড়ি এলাকায়। পরে তা বাগডোগরা ও পানিঘাটা থানা এলাকার দিকেও ছড়িয়ে পড়ে। তিনি জানান, তারাবাড়িতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, নিহত বা আক্রান্ত ব্যক্তিরা সত্যিই গরুপাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, তা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।গণপিটুনির ঘটনায় কারা জড়িত এবং কীভাবে এত বড় ঘটনা ঘটল, তা জানতে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছে পুলিশ। তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসবে।
