নিউজ ইউএপি অনলাইন ডেস্ক | আলিপুরদুয়ার
আলিপুরদুয়ারে এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শহরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোম ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আলিপুরদুয়ার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতার পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মৃতার স্বামী।(Alipurduar Nursing Home Negligence)
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ার–২ ব্লকের পশ্চিম খলসামারি এলাকার বাসিন্দা শ্রেয়া সরকার বৃহস্পতিবার সকালে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে শহরের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি হন। ওই দিনই বিকেলে তিনি একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।
মৃতার স্বামী মানিক সরকারের অভিযোগ, গত সাত মাস ধরে এক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু চিকিৎসক কখনও কোনো শারীরিক জটিলতার বিষয়ে পরিবারকে সতর্ক করেননি। এমনকি সন্তান জন্মের পরেও মা ও নবজাতক দু’জনেই সুস্থ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছিল।
অভিযোগ, সন্ধ্যা প্রায় সাতটা নাগাদ হঠাৎ নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ পরিবারের সদস্যদের জানায়, শ্রেয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা।
মানিক সরকারের দাবি, “আমার স্ত্রীর চিকিৎসায় গুরুতর গাফিলতি হয়েছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
শুক্রবার আলিপুরদুয়ার থানায় নার্সিংহোম ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। একইসঙ্গে অভিযোগের অনুলিপি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH) সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়, স্থানীয় বিধায়ক পরিতোষ দাস এবং জেলাশাসক ময়ুরী ভাসুর কাছেও পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জেলা পুলিশ সুপার অমিতকুমার শাহ জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো ঘটনার তদন্ত করা হবে এবং তদন্তে যা তথ্য সামনে আসবে, সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নবজাতককে কোলে পাওয়ার আনন্দ মুহূর্তের মধ্যেই শোকে পরিণত হওয়ায় মৃতার পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
