নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক:লেখক: গৌতম বিশ্বাস, শিলিগুড়ি
১৮৯৫ সালের আগস্ট মাসে আমেরিকা থেকে লেখা স্বামী বিবেকানন্দের দুটি ঐতিহাসিক চিঠি আজও মানবতা, সাহস, সত্য এবং আত্মবিশ্বাসের এক অনন্য দলিল। মিসেস বুল ও তাঁর শিষ্য আলাসিঙ্গা পেরুমলকে লেখা এই দুই পত্রে স্বামীজি শুধু ধর্মীয় দর্শনের কথাই বলেননি, তুলে ধরেছেন মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ, কর্মযোগ এবং আত্মশক্তির গভীর বার্তা।(Swami Vivekananda Letters 1895 )
মিসেস বুলকে লেখা চিঠিতে স্বামীজি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, মানুষই ঈশ্বরত্ব লাভের একমাত্র পথ। তাঁর মতে, পৃথিবীই সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষালয় এবং মানবজন্মই সর্বোচ্চ প্রাপ্তি। দেবদূত, দেবতা কিংবা অন্য কোনও জগতের প্রাণীও শেষ পর্যন্ত মানবজন্ম লাভ করেই ঈশ্বরত্বে পৌঁছতে পারে। তিনি লিখেছেন, “যতই বয়স বাড়ছে, ততই ‘মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী’—এই মতবাদের তাৎপর্য বুঝতে পারছি।”
এই চিঠিতে তিনি আরও জানান, নিজের দেশ ও স্বদেশবাসীর প্রতি কর্তব্য পালনের পর এবার তাঁর লক্ষ্য সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ। জাতি, ধর্ম কিংবা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে তিনি বিশ্বমানবতার সেবাকেই জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
অন্যদিকে, আলাসিঙ্গা পেরুমলকে লেখা চিঠিতে উঠে এসেছে তাঁর অদম্য আত্মবিশ্বাস ও কর্মদর্শন। তিনি লিখেছেন, “সত্যই আমার ঈশ্বর—সমগ্র জগৎ আমার দেশ।” প্রশংসা বা সমালোচনায় বিচলিত না হয়ে সত্যের পথে অবিচল থাকার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বিশ্বাস ছিল, যিনি সত্যের জন্য কাজ করেন, ঈশ্বর নিজেই তাঁর সহকর্মী ও সহযোগী পাঠান।
শিষ্যদের উদ্দেশে স্বামীজি আরও বলেন, “সময়, ধৈর্য ও অদম্য ইচ্ছাশক্তিতেই বড় কাজ সম্পন্ন হয়।” কাপুরুষতা ত্যাগ করে সাহসী, দৃঢ়চেতা ও কর্মনিষ্ঠ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, সত্য ও গুরুর প্রতি বিশ্বাস অটুট থাকলে কোনও শক্তিই মানুষকে পরাজিত করতে পারে না।
১৩০ বছরেরও বেশি সময় আগে লেখা এই দুই চিঠি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বর্তমান সমাজে বিভাজন, হিংসা ও সংকীর্ণতার আবহে স্বামী বিবেকানন্দের মানবতাবাদ, সত্যনিষ্ঠা এবং কর্মযোগের শিক্ষা নতুন প্রজন্মকে পথ দেখায়। তাঁর বাণী আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষের সেবাই প্রকৃত ধর্ম, আর সত্য ও সাহসই জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।
