https://newsuap.news/wp-content/uploads/2026/07/hedar-1-1.jpg

শিলিগুড়ি থেকে চার নাবালিকা পাচারের চেষ্টা, পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার

আজ সকালে শিলিগুড়ি জংশন এলাকা থেকে চারজন নাবালিকাকে পাচারের হাত থেকে উদ্ধার করল শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ স্টেশন সংলগ্ন বাস স্ট্যান্ড ও রেলওয়ে এলাকায় নজরদারি চালায়। ঠিক সেই সময় সন্দেহজনকভাবে দুই যুবক চার নাবালিকাকে নিয়ে গাড়িতে ওঠানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধরে ফেলে।

নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক, শিলিগুড়ি, ১৮ নভেম্বর ২০২৫:

শিলিগুড়ি শহর থেকে চার নাবালিকা পাচারের চেষ্টা ভেস্তে দিল পুলিশ ও চাইল্ডলাইন। আজ দুপুরে ভক্তিনগর থানার অন্তর্গত বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় চার জন নাবালিকাকে, যাদের উত্তরপ্রদেশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল পাচারচক্র। পুলিশ জানিয়েছে—দুই সন্দেহভাজন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে এবং তারা দিল্লি—লুধিয়ানা রুট ব্যবহার করে নাবালিকা পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।

সূত্র অনুযায়ী, চাইল্ডলাইন-এ একটি গোপন ফোন আসে যে কয়েকজন নাবালিকা অচেনা দুই ব্যক্তির সঙ্গে বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছে এবং তাদের আচরণ সন্দেহজনক। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জেরা করলে নাবালিকারা জানায়—তাদের “চাকরি দেওয়া হবে” এই প্রলোভনে বাড়ি থেকে বের করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তাদের প্রত্যেকের বয়স ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে।

পুলিশ সন্দেহ করছে—এই পাচারচক্র শহরের বিভিন্ন বস্তি ও নিম্নআয়ের এলাকা টার্গেট করে মেয়েদেরকে ‘চাকরি’, ‘নাচ শেখানো’, ‘হোস্টেলে রাখা হবে’ ইত্যাদি প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিয়ে যায়। ধৃত দুই ব্যক্তির মোবাইল ফোন পুলিশের হাতে এসেছে, যেখানে আরও কয়েকজন দালালের সঙ্গে যোগাযোগের হদিশ মিলেছে।

এই ঘটনার পর শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ শহরে সতর্কতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। বাস টার্মিনাস, রেলস্টেশন ও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় নজরদারিও বাড়ানো হচ্ছে।
চাইল্ডলাইন ও পুলিশ উভয়েই অভিভাবকদের অনুরোধ করেছে—অচেনা কেউ “চাকরি বা ট্রেনিং”-এর কথা বললে সঙ্গে সঙ্গে থানায় বা ১০৯৮ নম্বরে খবর দিতে।

এদিকে, উদ্ধার হওয়া চার নাবালিকাকে সেফ হোমে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং কাউন্সেলিং শুরু হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে পসকো, মানবপাচার প্রতিরোধ আইন ও আইপিসির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

আজ সকালে শিলিগুড়ি জংশন এলাকা থেকে চারজন নাবালিকাকে পাচারের হাত থেকে উদ্ধার করল শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ স্টেশন সংলগ্ন বাস স্ট্যান্ড ও রেলওয়ে এলাকায় নজরদারি চালায়। ঠিক সেই সময় সন্দেহজনকভাবে দুই যুবক চার নাবালিকাকে নিয়ে গাড়িতে ওঠানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধরে ফেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া চার নাবালিকার বয়স ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। তারা সবাই শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। তদন্তে জানা গেছে—পাচারচক্রটি মেয়েদের কাজের লোভ দেখিয়ে রাজ্যের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। প্রথমে কলকাতা, তারপর দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে তাদের একটি নেটওয়ার্কে যুক্ত করার চেষ্টা চলছিল বলে STF জানিয়েছে।

ধৃত দুই পাচারকারীর নামও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গ জুড়ে সক্রিয় একটি পাচার চক্রের সাথে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। মোবাইল ফোন, ট্রাভেল রুট ম্যাপ, এবং একাধিক সন্দেহজনক নম্বর উদ্ধার হয়েছে তাদের কাছ থেকে।

উদ্ধারকৃত নাবালিকাদের শিলিগুড়ি মহিলা থানা ও চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। কাউন্সেলিংও শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে—এই ঘটনার সাথে আরও কারা যুক্ত আছে, তা খতিয়ে দেখতে লাগাতার তল্লাশি চলছে।

স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলি পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, “উত্তরবঙ্গে নাবালিকা পাচার একটি বড় সমস্যা, পুলিশ এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিক।”

পুলিশের বার্তা: শিশুদের সন্দেহজনকভাবে কোথাও নিয়ে যেতে দেখলে ১০০ নম্বরে জানান।

 

এনজেপি রেল স্টেশনের ওয়েটিং রুমে মৃত্যু অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার, তদন্তে পুলিশ
শিলিগুড়িঃ নিউ জলপাইগুড়ি রেল স্টেশনের ওয়েটিং রুমে মৃত্যু হল এক মহিলা। মঙ্গলবার সকাল ১০টা নাগাদ মহিলাকে উদ্ধার করে রেল হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষনা করে। রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ওয়েটিং রুমে অসুস্থ হয়ে পড়েন মহিলা। অন্য যাত্রীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে মহিলাকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে নিকটবর্তী রেল হাসপাতালে নিয়ে যান জিআরপি এবং আরপিএফের কর্মীরা। সেখানে চিকিৎসকরা মহিলাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মহিলার কাছ থেকে মেলেনি রেলের কোনও বৈধ টিকিট বা নথি। ফলে মৃতার নাম পরিচয় জানতে পারেনি পুলিশ। এদিনই ময়নাতদন্তের জন্য মহিলার দেহটিকে পাঠানো হয়েছে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে। মহিলার পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত।