নিউজ ইউ এ পি অনলাইন ডেস্ক: নোটিশ জারির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই শিলিগুড়ি পুরনিগমের বুলডোজার অভিযান চলল ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের পঞ্চনই নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে। বৃহস্পতিবার আর্থমুভারের সাহায্যে বিতর্কিত ওই কার্যালয়টি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।(Bulldozer Operation)
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপির পক্ষ থেকে একই ওয়ার্ডে পূর্ত দপ্তরের জমিতে নির্মাণকাজ চললেও পুরনিগম সেখানে কোনও পদক্ষেপ করেনি। অথচ একদিনের নোটিশে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে পুর প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুর প্রশাসক ও কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের (সমতল) সভাপতি কুন্তল রায় বলেন, “একই এলাকায় বিজেপির তরফে পূর্ত দপ্তরের জমিতে দলীয় কার্যালয় তৈরির কাজ চলছে। কিন্তু পুরনিগম বেছে বেছে তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙছে। আমরা পুর কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ জানাব।”
অন্যদিকে বিজেপি নেতা তথা শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা অমিত জৈন বলেন, “যদি এমন কোনও অভিযোগ থাকে, তা জানানো হোক। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শহরের প্রাক্তন মেয়র তথা সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য বলেন, “এটা আগেই ভেঙে দেওয়া উচিত ছিল।”
পুরনিগমের দাবি: অবৈধ নির্মাণ
জানা গিয়েছে, বাম আমলে পঞ্চনই নদীর পাড়ে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য একটি পার্ক তৈরি করা হয়েছিল। ২০২০ সালে লোহার সেতু চওড়া করার সময় বিকল্প রাস্তা নির্মাণের জন্য পার্কটি ভেঙে ফেলা হয়। পরে ওই জমির একাংশ দখল করে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় গড়ে তোলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
বর্তমান প্রশাসক পরিচালিত পুরনিগম ওই নির্মাণকে অবৈধ চিহ্নিত করে গত মঙ্গলবার নোটিশ জারি করে। শাটারে নোটিশ সাঁটানোর একদিন পরেই পুলিশের উপস্থিতিতে বুলডোজার চালিয়ে কার্যালয়টি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
নতুন প্রশ্ন: ফিরবে কি সিনিয়র সিটিজেন পার্ক?
দলীয় কার্যালয় ভাঙার পর এলাকায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে— পঞ্চনই নদীর পাড়ে কি আবারও প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সেই পার্কটি গড়ে তোলা হবে? পুর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে এখনও কোনও ঘোষণা করেনি।
