নিউজ ইউ এ পি অনলাইন ডেস্ক: কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত যোজনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে যখন জোর প্রস্তুতি চলছে, তখনই বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের জনসভা থেকে তিনি জানান, যাঁরা আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড পাবেন না, তাঁদের জন্য রাজ্য সরকার চালু করবে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা, যেখানে পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা দেওয়া হবে।(West Bengal Health Scheme)
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাড়ে ৬ কোটির বেশি মানুষকে আয়ুষ্মান যোজনার কার্ড দেওয়া হবে। যাঁরা কার্ড পাবেন না, তাঁদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিমা যোজনায় ৫ লক্ষ টাকার চিকিৎসা ফ্রি দেওয়া হবে। শুধু বাংলাতেই নয়, দেশের যে কোনও প্রান্তে চিকিৎসার সুবিধা পাওয়ার ব্যবস্থা করবে সরকার।’
আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে সংশয় কাটানোর চেষ্টা
রাজ্যে পালাবদলের পরই বিজেপি সরকার আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এরপর থেকেই জোরকদমে শুরু হয়েছে ফর্ম পূরণ এবং কার্ড বিতরণের কাজ। তবে আগের সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের মতো সকল বাসিন্দা এই সুবিধা পাবেন কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছিল।
বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল এবং নিম্নআয়ের বহু পরিবার জানতে চাইছিল, তাঁদের নাম তালিকায় না থাকলে চিকিৎসার ক্ষেত্রে কী হবে। সেই প্রশ্নেরই জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন যে, কোনও পরিবারকে চিকিৎসার সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে না।
স্বাস্থ্যসাথীর বিকল্প নাকি পরিপূরক?
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নতুন সরকার একদিকে কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কার্যকর করতে চাইছে, অন্যদিকে যাঁরা সেই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না, তাঁদের জন্য রাজ্যভিত্তিক একটি বিকল্প স্বাস্থ্যবিমা কাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, এই নতুন স্বাস্থ্যবিমা যোজনা কি আগের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের বিকল্প হবে, নাকি তার পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। যদিও এ বিষয়ে এখনও বিস্তারিত সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ হয়নি।
ফর্ম পূরণ ও কার্ড বিতরণ শুরু
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যেই আয়ুষ্মান ভারতের ফর্ম পূরণ এবং কার্ড বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বুথভিত্তিক শিবিরের মাধ্যমে দ্রুত নাম নথিভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আয়ুষ্মান ভারত এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা একসঙ্গে কার্যকর হয়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবায় একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
