নিউজ ইউ এ পি অনলাইন ডেস্ক: তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের আবহে আবারও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-কে কটাক্ষ করলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তিনি আঙুল তুলেছেন আই-প্যাক এবং অভিষেকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুমিত রায়-এর দিকেও।(Kalyan Banerjee)
কল্যাণের দাবি, একসময় যারা অভিষেক ও আই-প্যাকের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছিলেন, তারাই এখন ঋতব্রতপন্থী শিবিরে গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।
‘ক্যামাক স্ট্রিটই শেষ করে দিল আমাদের’
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণ বলেন,
“ক্যামাক স্ট্রিটে সুমিত রায়ের সঙ্গে যাঁরা সংগঠনের কাজ নিয়ে কথা বলতেন, তাঁদের এখন পুলিশ ডেকে শালবনির মামলার সঙ্গে যোগ থাকার কথা বলছে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে জেলে ঢুকিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, “এখন পুলিশ বলছে, হয় ঋতব্রতের শিবিরে যাও, না হলে ধরে নেব। সুমিতের জন্য অসংখ্য ছেলে চাপের মুখে পড়ছে। ক্যামাক স্ট্রিটই শেষ করে দিল আমাদের।”
বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কল্যাণের আক্রমণ
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, বর্তমান ঋতব্রতপন্থী নেতাদের অনেকেই একসময় অভিষেকের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং আই-প্যাককে সামনে এনে সংগঠনে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। তাঁর কথায়,
তিনি আরও বলেন, “সুমিত দিনে দু’বার কথা বললে ভাবত জীবন ধন্য হয়ে গেছে। আমি যখন আই-প্যাকের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছি, তখন তো কেউ পাশে দাঁড়ায়নি।”
২০২২ সালের ঘটনার প্রসঙ্গ
কল্যাণ স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২২ সালে তিনি প্রথম আই-প্যাক ও ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর দাবি, সেই সময় দলের একাংশ তাঁর বিরোধিতা করেছিল এবং পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাশে না থাকলে তাঁকেই দল ছাড়তে হত।
সেই সময় তাঁর বিরুদ্ধে পোস্টার পড়ে এবং অভিষেকের অনুগামীদের বিক্ষোভের ঘটনাও সামনে এসেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঋতব্রতপন্থীদের পাল্টা কটাক্ষ
ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের মুখপাত্র কোহিনূর মজুমদার কল্যাণের বক্তব্যের জবাবে বলেন,
তিনি আরও দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই আই-প্যাককে প্রশ্রয় দিয়েছিলেন এবং এখন সেই প্রসঙ্গ তুলে লাভ নেই।
তৃণমূলের অন্দরে বাড়ছে চাপানউতোর
বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের মধ্যে যে বিদ্রোহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা বাড়িয়েছে। যদিও তিনি বারবার জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই আছেন, তবু অভিষেক ও তাঁর দফতর নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করায় তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব ফের সামনে এল।
